গর্ভাবস্থায় খাবার গ্রহণে বিধি নিষেধ

ramoniyo unsafe foods during pregnancy

গ্রিস্মকালের টসটসে ফল আনারস। খেতে কতই না মিষ্টি আর মজাদার। কিন্তু গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া যাবেনা এটা আমরা সবাই জানি, এতে গর্ভের বাচ্চার এবরশনও হতে পারে! কিন্তু এমন আরও অনেক খাবার আছে যেগুলো গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলতে হয়। এটা অনেকে জানেনও না কেন এবং কি কারনে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। আজ আমি কি কি খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ সেই সম্পর্কেই বলব।

গর্ভাবস্থায় সাধারন সময়ের তুলনায় বেশি পরিমানে  ক্যালরি গ্রহন করতে হয়, খেতে হয় আর একটু বেশি। কারন এই সময়ে মায়ের আহার করা শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, মিনারেলস আর পানি থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করে করে ভ্রূণ বেড়ে উঠে। মা যা খায় শিশুও তাই গ্রহন করে। কাজেই এই সময় অযথা ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শ) ব্যতিত খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। বিধি নিষেধ আছে কিছু ফল ও সব্জির উপরেও। যেমনঃ

pineapple-during-pregnancyআনারসঃ

আনারসে প্রটিওলাইটিক এনজাইম ব্রমেলাইন আছে যা সারভিক্স কে নরম হতে সাহায্য করে এবং প্রসব সহজতর করে। কাজেই, গর্ভবতী অবস্থায় প্রথম ৮ মাস এই ফলটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। কারন নরম সারভিক্স এর কারনে অকাল গর্ভপাত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

tamarind-during-pregnancyতেতুলঃ

তেঁতুল খেলে মর্নিং সিকনেস কেটে যায়। তেঁতুল বেশ উপকারি একটা ফল। অল্প খেলে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে প্রিম্যাচিউরড বাচ্চা প্রসব করার প্রবনতা বাড়ায় । কারন তেঁতুলে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি। অতিরিক্ত ভিটামিন সি প্রজেস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয় তাই অসময়ে গরভপাত হওয়ার প্রবনতা বাড়ে। কিন্তু পরিমান মত খেলে কোন সমস্যা নেই।

eggplan-during-pregnancyবেগুনঃ

প্রচুর পরিমানে ফাইটোহরমন থাকার কারনে প্রিমিন্সচুয়াল সিন্ড্রম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়, তাই গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস এটি না খাওয়াই ভালো, আর এলারজির সমস্যা থাকলেও কিন্তু বেগুন এড়িয়ে যাওয়া ভালো। এছাড়া পরিমিত বেগুন খাওয়ায় কোন সমস্যা হয়না।

papaya-during-pregnancyকাঁচা পেপেঃ

কাঁচা পেঁপেতে পাপাইন নামক এনজাইম থাকে যা অকাল গরভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। আর যাদের এলারজি আছে তাদের তো কাঁচা পেঁপে খাবারের তালিকা থেকে একেবারেই বাদ রাখা উচিৎ। কাজেই এটা এড়িয়ে চলাই ভালো। অনেকেই অবশ্য রান্না করা কাঁচা পেঁপে খান কোন সাইড এফেক্ট ছাড়াই। কিন্তু সবার শরীরের কন্ডিশান তো এক রকম থাকে না, তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কাঁচা পেঁপে খাওয়া উচিৎ। অন্য দিকে পাকা পেঁপে গর্ভবতীদের জন্য খুবই ভালো। এটা হজমে সাহায্য করে। 

tarmaric-during-pregnancyহলুদঃ

রান্নায় হলুদ খাওয়া কোন সমস্যা না। কিন্তু প্রথম তিন মাস আলাদাভাবে হলুদ খাওয়া খুবই বিপদজনক। কারন হলুদ পিরিয়ডের প্রবনতা বৃদ্ধি করে তাই অকাল গরভপাত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত হলুদ গ্রহনে কঞ্জেনিটাল বার্থ ডিফেক্ট  (ঠোঁট কাটা,তালু কাটা) হতে পারে। 

grapes-during-pregnancyআঙ্গুরঃ

গর্ভস্থ শিশুর কোন সমস্যা না হলেও অতিরিক্ত আঙ্গুর খাওয়ার জন্য এসিডিট, বমি বমি ভাব হতে পারে, ডায়াবেটিক থাকলে সুগার বেড়ে যেতে পারে। তাই আঙ্গুর একবারে অনেক গুলো না খেয়ে  পরিমিত পরিমানে খাওয়া উচিৎ।

seafood-during-pregnancyমার্কারি যুক্ত সী-ফুডঃ

মার্কারি যুক্ত সী-ফুড একেবারেই পরিহার করা উচিৎ। সামুদ্রিক বড় বড় মাছ গুলোতে মার্কারির পরিমান অনেক বেশি থাকে। মার্কারি যুক্ত সী-ফুডের মিথাইলমার্কারি গর্ভস্থ শিশু খুব সহজেই গ্রহন করে ফেলে, যা শিশুর ব্রেইন এবং স্নায়ু তন্ত্রের উপরে অনেক বড় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সপ্তাহে ৬ আউন্সের বেশি মার্কারি যুক্ত মাছ একেবারেই এড়িয়ে চলুন।

meat-during-pregnancyকাঁচা মাছ,মাংস বা আধাসিদ্ধ মাংসঃ

কাঁচা মাংসে ক্রিমি থাকে, খুব ভালো ভাবে সিদ্ধ না করলে ক্রিমি গুলো জীবিতই থাকেই, কাজেই বুঝতেই পারছেন কাঁচা মাংস বা আধা সিদ্ধ মাংস কেন খাওয়া যাবেনা। আর কাঁচা মাছের মধ্যে থাকে অসংখ্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। মাছ ভালো ভাবে ধুয়ে রান্না না করে খেলে এইসব ব্যাকটেরিয়া শরিরে জীবিত অবস্থায় প্রবেশ করে আর নানাবিধ ক্ষতি সাধন করে থাকে।

coffee-during-pregnancyক্যাফেইনঃ

চা, কফি, চকোলেট, কোকো পউডার , চকোলেট মিল্ক শেক এগুলোতে প্রচুর পরিমানে ক্যাফেইন থাকে যা অনিদ্রা ঘটায় । এছাড়াও সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুর উপরে চাপ সৃষ্টি করে, হয়তো আপনি বুঝতেও পারবেন না মাত্রাতিরিক্ত চা, কফির কারনে শিশুর স্নায়ুর কত বড় ক্ষতি করে ফেলছেন আপনি।

drugs-during-pregnancy

ধুমপান, মদ এবং অন্যান্য মাদকঃ

 এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা ধূমপান , মদ ও অন্যান্য মাদক সেবন গর্ভস্থ শিশুদের মানসিক প্রতিবন্ধি, ফুস্ফুসের ক্যান্সার, বিকলাঙ্গতা এবং হৃদ রোগের অন্যতম কারন। শুধু তাই নয়, বরং আপনার আশেপাশে কেউ ধূমপান করলেও সেখান থেকে সরে আসুন, কারন সিগারেটের কালো ধোঁয়া আপনার সেই একই ক্ষতি করবে যা একজন ধূমপান কারির করে থাকে। 

এছাড়াও গাজর, কাঁকড়া, চিংড়ির খোলস, বাঙ্গি, করল্লা এইসব খাবারও এড়িয়ে যায় অনেকে। তারপরেও মনে রাখতে হবে, সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়, যে খাবার একজনের তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ার সন্মুখিন হতে পারে সেই খাবার বারবার খেয়েও অনেকে দিব্যি কোন সমস্যা ছাড়াই চলাফেরা করছে। কাজেই কোন খাবারে সন্দেহ থাকলে নিজের গাইনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শের বিকল্প নেই। কিন্তু কিছু খাবার সর্বজন স্বীকৃত যে এসব গর্ভকালীন সময়ে স্পর্শও করা যাবেনা, যেমন ধূমপান , মাদক , আনারস ইত্যাদি। আশা করছি আপনারা এই আলোচনা থেকে গর্ভকালীন পরিত্যাজ্য খাবার গুলো সম্পর্কে একটা ধারনা লাভ করেছেন। এরকম আরো ব্লগ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.